বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন সূর্যোদয় হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। এদিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশ নেবেন তিনি। এই ব্যস্ততম সূচির কারণেই ঢাকায় তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে আসতে পারছেন না মোদি। তবে মোদি না এলেও তার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর অথবা ভাইস-প্রেসিডেন্ট জগদীপ ধনখড় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে আঞ্চলিক ও প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতাদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (প্রতিনিধি পাঠানোর সম্ভাবনা)। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (উপস্থিত থাকার জোরালো সম্ভাবনা)। এছাড়াও চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটান।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ঐতিহাসিক জয়ের পর তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান নরেন্দ্র মোদি। তিনি এই বিজয়কে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন বলে অভিহিত করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, মোদির অভিনন্দন এবং উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত সেই বরফ গলতে শুরু করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আগামী মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার মূল শপথ অনুষ্ঠান। বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের অংশগ্রহণ সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

