বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সড়ক ও পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের আলোচিত ‘চাঁদা’ আদায়ের প্রথা নিয়ে এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্য। মন্ত্রীর দাবি—পরিবহন থেকে নেওয়া এই অর্থ ‘চাঁদা’ নয়, বরং ‘সমঝোতা’। অন্যদিকে, এই বক্তব্যকে অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাফ জানিয়ে দেন, সড়কে যে অর্থ তোলা হয় তাকে তিনি প্রথাগত চাঁদা হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষ্যমতে: চাঁদা তাকেই বলা হয় যা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। কিন্তু মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলো নিজেদের কল্যাণে সমঝোতার ভিত্তিতে এই টাকা তোলে।
মন্ত্রী একে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আধিপত্য থাকলেও এটি মূলত সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়।
মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাইরে থেকে কেউ চাপ দিয়ে টাকা নেবে—সেই সুযোগ নেই। তবে অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান তাসনিম জারা। তিনি মন্ত্রীর যুক্তিগুলোকে খণ্ডন করে বেশ কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেন: তাসনিম জারার মতে, একে ‘সমঝোতা’ বলা মানে অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া। চালকরা নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে এই টাকা দিতে বাধ্য হন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অলিখিত লেনদেনের কারণেই বাস ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকেই।
মন্ত্রী যখন নিজেই স্বীকার করেন ‘যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের আধিপত্য থাকে’, তখন এটি আসলে রাজনৈতিক ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম কি না—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি নিরসনে তাসনিম জারা সরকারের প্রতি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন: রাস্তায় নগদ অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র সাথে এই অর্থ যুক্ত করে সংগ্রহের ব্যবস্থা করা। সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা কার পকেটে যাচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা। অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর আহ্বান।
পরিবহন খাতের এই অর্থ আদায় পদ্ধতি নিয়ে সরকারের নমনীয় অবস্থান এবং বিরোধী শিবিরের কঠোর সমালোচনা এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে, সত্যিই কি সড়কে ‘চাঁদাবাজি’র অবসান ঘটবে নাকি ‘সমঝোতা’র নামেই চলবে অর্থ আদায়।

