গৌরীপুর প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রাজনীতির এক কুৎসিত রূপ প্রকাশ্যে এসেছে। দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মী হওয়া সত্ত্বেও ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় নিজ দলের নেতার হাতেই লাঞ্ছিত ও মাথা ন্যাড়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য আবদুল মান্নান তালুকদারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান তালুকদারের ভাষ্যমতে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ময়মনসিংহ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের (ঘোড়া প্রতীক) পক্ষে কাজ করেছিলেন। বুধবার দুপুরে সিএনজিযোগে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে গৌরীপুর পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে আটকানো হয়।
কী ঘটেছিল সেদিন?
রেলক্রসিং এলাকায় সিএনজি থামিয়ে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে আনেন পৌর কৃষক দলের সভাপতি শাহী মুনশী। জনসম্মুখেই তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে শাহী মুনশী ও তার সহযোগীরা মিলে মান্নানের মাথার চুল ন্যাড়া করে দেন। পৈশাচিক আনন্দ পেতে পথচারীদের ডেকে এনে ন্যাড়া মাথা প্রদর্শন করা হয়।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আবদুল মান্নান বলেন, “বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে ছিলাম, বারবার জেল খেটেছি। কিন্তু আজ নিজের দলের লোকের কাছে এমন ‘উপহার’ পাব তা কল্পনাও করিনি। ধানের শীষ জয়ী হয়েছে, আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফেরার কথা ছিল, কিন্তু আমার ভাগ্যে জুটল চরম অপমান।”
ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত গৌরীপুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি কাজিয়েল হাজাত শাহী মুনশী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বিএনপির সুনাম নষ্ট করতে এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তবে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনায় শাহী মুনশীকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ বলেন, তিনি এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, রাজপথের লড়াকু সৈনিক মান্নান তালুকদারকে এভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
জেলা কৃষক দল সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল বাশার আকন্দ: তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চেষ্টা করেও এই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা যখন দলের অভ্যন্তরীণ কর্মীদের ওপর আঘাত হানে, তখন তা কেবল বিশৃঙ্খলাই তৈরি করে না, বরং দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। গৌরীপুরের এই ঘটনা এখন স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির শৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।

