সামাজিক সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ: ১৩ উপজেলায় শুরু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, উদ্বোধন ১০ মার্চ

0
সামাজিক সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ: ১৩ উপজেলায় শুরু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, উদ্বোধন ১০ মার্চ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে নবগঠিত সরকার। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটি’র এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে মাত্র দুটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরুর কথা থাকলেও, সরকারের বিশেষ আগ্রহে এটি বাড়িয়ে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃত অভাবী ও দরিদ্রদের চিহ্নিত করে এই কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

সরেজমিনে যাচাই: জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য ব্যবহার করা হলেও প্রতিটি ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে সুবিধাভোগী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

চার স্তরের শ্রেণিবিভাগ: উপকারভোগীদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনুযায়ী—হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভাতা বণ্টনের নিয়ম: একটি কার্ডে ৫ জন সদস্যকে ধরা হবে। যৌথ পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৫-এর অধিক হলে প্রতি ৫ জনের জন্য আলাদা কার্ড ইস্যু করা হবে। তবে একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি ভাতা পাবেন না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ‘টার্গেটিং ত্রুটি’ (প্রকৃত অভাবী চিহ্নিত করতে না পারা) রয়েছে। এতে বিশাল অংকের অর্থের অপচয় হয়। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হলে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন কর্মসূচীকে একীভূত করে এই সিস্টেম লস বা অর্থের অপচয় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক এলাকাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ১৩টি স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সেগুলো হলো, ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি ও নবাবগঞ্জ। পতেঙ্গা ও বান্দরবানের লামা। বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর ও ঠাকুরগাঁও। রাজবাড়ীর পাংশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব।

উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক তালিকা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অনুদানের অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ/নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।