প্রশাসনে বড় রদবদল: প্রধানমন্ত্রীর সচিবসহ তিন সচিবকে সরিয়ে দিল বিএনপি সরকার

0
প্রশাসনে বড় রদবদল: প্রধানমন্ত্রীর সচিবসহ তিন সচিবকে সরিয়ে দিল বিএনপি সরকার

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় দেশের শীর্ষ প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিন গুরুত্বপূর্ণ সচিবকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে নবগঠিত বিএনপি সরকার। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন, মো. সাইফুল্লাহ পান্না, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব (সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন)।

রেহানা পারভীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব। মো. কামাল উদ্দিন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এর আগে গত তিন দিনে প্রশাসনের দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব—মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া নিজ থেকে সরে দাঁড়ান।

পরবর্তীতে নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের সাবেক একান্ত সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সচিবালয় সূত্র বলছে, পরিবর্তনের এই হাওয়া এখানেই থামছে না। খুব শীঘ্রই নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে রদবদল আসতে পারে । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ চারটি খালি হওয়া সচিব পদে নতুন নিয়োগ। চুক্তিতে থাকা ১৬ জন সচিবের কয়েকজনের চুক্তি বাতিল। মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল হয়েছিল। তখন প্রথম ছয় মাসেই ১৪ জন সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে এবং ২৩ জন সচিবকে ওএসডি করা হয়েছিল।

তবে বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ভিন্ন। তারা আশা করছেন অতীতের মতো যেন দলীয়করণ না করা হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে যেন অযোগ্যদের প্রাধান্য না দেওয়া হয়। কোনো দক্ষ কর্মকর্তা যেন প্রতিহিংসার শিকার না হন।

উল্লেখ্য যে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কেবল মেধা, সততা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকেই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রশাসনের বর্তমান অস্থিরতা ও রদবদলের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় আছেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।