মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত যুদ্ধে জড়াবে না ইউরোপের ৩ দেশ: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে অনড় ব্রিটেন-জার্মানি

0
মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত যুদ্ধে জড়াবে না ইউরোপের ৩ দেশ: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে অনড় ব্রিটেন-জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইউরোপের তিন রাষ্ট্র। সোমবার (১৬ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস সাফ জানিয়ে দিয়েছে—তারা এই অঞ্চলে কোনো সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যের প্রধান লক্ষ্য ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যুক্তরাজ্য নিজেকে কোনো বৃহত্তর বা বিস্তৃত যুদ্ধের মধ্যে টেনে নিতে দেবে না।” ব্রিটেন বরং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট সমাধানের পক্ষে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনার সঙ্গে সামরিক জোট ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। জার্মানির এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সামরিক উপায়ে বা কোনো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যোগ দিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার কোনো প্রচেষ্টায় জার্মানি শামিল হবে না।” তারা সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।

একই সুরে কথা বলেছে গ্রিস। দেশটির সরকারি মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক তৎপরতায় অংশ নেবে না গ্রিস। ইউরোপের এই দেশটি মূলত যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় মিত্রদের এমন অবস্থান হোয়াইট হাউসের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় মিত্ররা যদি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহায়তা প্রদানে এগিয়ে না আসে, তবে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মূলত ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পরই ইউরোপের দেশগুলোর পক্ষ থেকে এমন আত্মরক্ষামূলক বিবৃতি এলো।

এদিকে ইরানে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। ইরান ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে তাদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার কালো মেঘ দেখা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটন যখন মিত্রদের এককাট্টা করে ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে, তখন ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর এই ‘না’ সূচক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মোড় নিতে পারে।