ঈদের ছুটিতে পর্যটনে জোয়ার: সৈকত থেকে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

0
ঈদের ছুটিতে পর্যটনে জোয়ার: সৈকত থেকে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

আজকের ডেস্কঃ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগ করে নিতে যান্ত্রিক শহর ছেড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে মেতেছে দেশবাসী। ঈদের দ্বিতীয় দিনে আজ সারা দেশের বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটন স্পটগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

কানায় কানায় পূর্ণ পুরো সমুদ্রসৈকত। মাদ্রাসা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ। কেউ মেতেছেন নোনাজলের ঢেউয়ে, কেউবা বালিয়াড়িতে আনন্দে মগ্ন। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। হোটেল-মোটেল মালিকদের তথ্যমতে, এবার ঈদে কক্সবাজারে প্রায় ১০ থেকে ১১ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরের ৫ শতাধিক হোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকড হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা সৈকতেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে এবং সৈকতে বাইক রাইডিং ও ফিশ ফ্রাইয়ের স্বাদে মেতেছেন দর্শনার্থীরা।

প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় বেড়েছে পার্বত্য জেলাগুলোতেও।

সাজেক ভ্যালি: রাঙ্গামাটির সাজেকে এখন মেঘ আর পাহাড়ের মিতালি দেখতে কয়েক হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত এখানকার রিসোর্টগুলোতে কোনো সিট খালি নেই।

বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি: বান্দরবানের নীলগিরি, নীলআঁচল এবং খাগড়াছড়ির আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ ও ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলং, বিছনাকান্দি ও সাদাপাথর এলাকায় পাথর আর স্বচ্ছ জলের খেলায় মেতেছেন পর্যটকরা। ব্যবসায়ীদের মতে, এই ছুটিতে সিলেটে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে, যা থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মব্যস্ত ঢাকা এখন অনেকটাই যানজটমুক্ত। তবে নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে উপচে পড়া ভিড়:

জাতীয় চিড়িয়াখানা: মিরপুর চিড়িয়াখানায় আজ কয়েক লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। বিশেষ করে সাদা বাঘের নতুন চারটি শাবক এবং জিরাফের নতুন অতিথি দেখতে শিশুদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।

ঐতিহাসিক স্থান: লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল এবং জাতীয় জাদুঘরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হাতিরঝিল, দিয়াবাড়ি এবং রমনা পার্কে বিকেলে মানুষের ঢল নামছে।

পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে। সমুদ্র সৈকতগুলোতে লাইফগার্ড কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে খাবার বা যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়।