হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: মার্কিন তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

0
হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: মার্কিন তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ দ্বীপের কাছে একটি এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। আজ রোববার (২২ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ (ISNA) এবং মেহর নিউজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের জয়েন্ট এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিমানটি দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের আকাশসীমা লংঘন করে ভেতরে অনুপ্রবেশ করেছিল। রাডারে শনাক্ত হওয়ার পর সেটিকে সতর্ক করা হলেও সেটি আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে যুদ্ধবিমানটি থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, যা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

তবে ভূপাতিত বিমানটি নির্দিষ্ট কোন দেশের (যুক্তরাষ্ট্র না কি ইসরায়েল) অথবা এর পাইলটের বর্তমান অবস্থা কী, সে সম্পর্কে তেহরান এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য বা ধ্বংসাবশেষের ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পুরো অঞ্চলটি বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ওই বিধ্বংসী হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই ইরান দফায় দফায় পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল।

এফ-১৫ ভূপাতিত করার খবরের পাশাপাশি ইরান বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছে। আইআরজিসি (IRGC)-র দাবি অনুযায়ী, তাদের সর্বশেষ হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে: আরাদ, ডিমোনা, ইলাত, বিরশেবা ও কিরিয়াত গাত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা। কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ও আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি।

আইআরজিসির দাবি, এসব হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যার বিষয়ে ইসরায়েল বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির আরাদ শহরে ৮৮ জন এবং ডিমোনা শহর থেকে ৩৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তারা নিহতের কোনো খবর নিশ্চিত করেনি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর মতো স্পর্শকাতর এলাকায় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তায় চরম অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের এই দাবির পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।