‘জনগণের রায় মানতেই হবে, ফ্যাসিবাদের ঠাঁই নেই’: সিলেটে ডা. শফিকুর রহমান

0
‘জনগণের রায় মানতেই হবে, ফ্যাসিবাদের ঠাঁই নেই’: সিলেটে ডা. শফিকুর রহমান

সিলেট প্রতিনিধিঃ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের রাজনীতি বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় বলেই গণভোটে রায় দিয়েছে এবং সেই জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

রোববার বিকেলে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাজনৈতিক দলগুলো বলত যে নির্বাচিত সরকার ছাড়া স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। কিন্তু নির্বাচনের পর দল সরকারে গেল, অথচ কাঙ্ক্ষিত শান্তি বা স্থিতিশীলতা দেখা মিলল না। সমাজ থেকে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসা এখনো দূর হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত সরকারের আমলেই মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিদায় নিতে হয়েছে। অথচ সেখানে প্রথমবারের মতো দলীয় বিবেচনায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে বসানো হয়েছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আজ কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেওয়া হচ্ছে। অথচ ২০২৬ সালের নির্বাচন বা বিশেষ কোনো দলের সরকার ও বিরোধী দল হওয়ার বিষয়টি সংবিধানে ছিল না; এটি সম্ভব হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগের বিনিময়ে। মনে রাখতে হবে, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, জনগণের জন্যই সংবিধান।”

তিনি জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রোভিসিদের সরিয়ে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া এবং ঈদযাত্রায় জনগণের চরম ভোগান্তি প্রমাণ করে যে সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।

নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়েছি মানে এই নয় যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করব। তবে সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, দীর্ঘ ১৫ বছর আমাদের মতো আপনারাও মজলুম ছিলেন। তাই সংস্কার প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকুন।”

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে সম্পদের অভাব নেই, অভাব শুধু চারিত্রিক সম্পদের। আমাদের সন্তানরা বিশ্বজুড়ে মেধার স্বাক্ষর রাখছে। আমরা সেই মেধাবীদেরই জাতির নেতৃত্বে দেখতে চাই।”

দলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের কারণে আমাদের দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করিনি। ইনশাআল্লাহ, আমাদের এই আপসহীন পথচলা অব্যাহত থাকবে।”

সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।