আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এখন এমন এক সংকটের মুখোমুখি, যা ক্রমেই তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে রণক্ষেত্রের বাস্তবতা ট্রাম্পের দাবিকৃত ‘সামরিক বিজয়ের’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং মিত্রদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ট্রাম্প প্রশাসন এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে যুদ্ধটি ‘সামরিকভাবে জয়ী হয়েছে’। তবে হোয়াইট হাউসের এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ইরান এখনো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত করছে এবং অঞ্চলজুড়ে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকা ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে সহায়তা না করায় ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘ভীরুতা’র অভিযোগ তুলেছেন। অথচ বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ১৪ মাস ধরে ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলোকে অবজ্ঞা করার নীতিই আজ তাকে আন্তর্জাতিকভাবে একা করে দিয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। কিন্তু ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা; তাদের দাবি, হামলাটি ওয়াশিংটনের সঙ্গেই সমন্বয় করা হয়েছিল। এই প্রকাশ্য মতবিরোধ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে:
অভিযান জোরদার করা: ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল বা স্থল সেনা মোতায়েন করা। এতে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে।
বিজয় ঘোষণা করে সরে আসা: এতে উপসাগরীয় মিত্ররা ক্ষুব্ধ হবে, কারণ তাদের সামনে রয়ে যাবে এক প্রতিশোধপরায়ণ ইরান।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসছে ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি থেকে। ক্ষমতার আসার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধ’ থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ ডেভ উইলসনের মতে, “যখন মানুষ দেখবে হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে তারা ছুটিতে যেতে পারছে না বা গ্যাসের জন্য অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে, তখন সমর্থন দ্রুত কমতে শুরু করবে।”
সামনে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই অস্পষ্ট প্রস্থান কৌশল বা ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’র অভাব রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, “ট্রাম্প নিজেই নিজেকে ‘ইরান যুদ্ধ’ নামের একটি বাক্সে বন্দি করেছেন। তিনি বুঝতে পারছেন না কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসবেন।”
যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করছে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে, তবে যুদ্ধের ময়দান এবং মার্কিন জনমত—উভয়ই এখন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

