বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় চরম জ্বালানি সংকটে পড়েছে দেশের পেট্রল পাম্পগুলো। পে-অর্ডার করতে না পারায় ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করতে পারছেন না মালিকরা। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একদিকে তেলের আকাল, অন্যদিকে পাম্প কর্মীদের ওপর বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি চিঠিতে এই সতর্কবার্তা ও বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল কবির জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল তুলতে হলে অগ্রিম পে-অর্ডার জমা দিতে হয়। কিন্তু ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় মালিকরা টাকা জমা দিতে পারছেন না। ফলে তেলের মজুদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন করে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। আগামীকাল মঙ্গলবার ব্যাংক খুললে এই অচলাবস্থা কাটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেয়। এরপরই ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হতে পারেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেশনিং তুলে নেওয়ার পর চাহিদার যে উল্লম্ফন ঘটেছে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তেল না পেয়ে অনেক পাম্পে গ্রাহকদের সাথে স্টাফদের হাতাহাতি ও পাম্প ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ ভোক্তাদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, “মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে পাম্পে বিশৃঙ্খলা ও স্টাফদের মারধরের ঘটনা বাড়ছে। এমতাবস্থায় পাম্প মালিকদের নিজস্ব নিরাপত্তা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।”
নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তেল না পাওয়ার কারণে রবিবার রাত থেকেই অনেক পাম্প বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তবে কারো আদেশের অপেক্ষা না করে কর্মচারীদের নিরাপত্তায় নিজেদের সিদ্ধান্ত (পাম্প বন্ধ রাখা) নিজেদেরই নিতে হবে।
সরজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর অনেক পাম্পেই ‘তেল নেই’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ ও দূরপাল্লার যানবাহনের চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মঙ্গলবার ব্যাংক খোলার পর পে-অর্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তেল পাম্পে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

