নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক ঠাকুরমান্দা রঘুনাথ জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে আজ থেকে শুরু হয়েছে শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের জন্মোৎসব ও ঐতিহ্যবাহী রামনবমী মেলা। চৈত্র মাসের শুক্লা নবমী তিথির মাহেন্দ্রক্ষণে শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর থেকেই লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের এই অন্যতম বৃহৎ তীর্থস্থান। ১০ দিনব্যাপী এই উৎসবে এবারও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এক অভূতপূর্ব অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরমান্দা মন্দিরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর সংলগ্ন পুকুরটি। লোকমুখে প্রচলিত শত বছরের পুরনো এক জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক অন্ধ ভক্ত এই পুকুরে স্নান করে অলৌকিকভাবে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন। সেই শিহরণ জাগানিয়া বিশ্বাসকে পুঁজি করে আজও হাজারো মানুষ চোখের জ্যোতি ফিরে পাওয়া বা রোগমুক্তির আশায় পুকুরে ‘পুণ্যডুব’ দিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্দির প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশ। শত শত বাবা-মা তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে মন্দিরের চাতালে শুইয়ে রেখে অলৌকিক কৃপার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রার্থনা করছেন। কেউ টাকা ছিটিয়ে মানত করছেন, কেউবা পদ্মপাতা মাথায় দিয়ে বিশেষ পূজা নিবেদন করছেন।
এবারের উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার মনোজ কুমার এবং নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু।
হাইকমিশনার মনোজ কুমার ভক্তদের ভক্তি ও গভীর বিশ্বাসের প্রশংসা করে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে অভিহিত করেন।
সংসদ সদস্য ডা. টিপু জানান, ঠাকুরমান্দার এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল স্মারক।
ঢাকা থেকে আসা পুণ্যার্থী লক্ষ্মী সরকার এবং রাজশাহী থেকে আসা শুভজিৎ রায় জানান, বংশপরম্পরায় তারা এই মন্দিরে আসেন। তাদের বিশ্বাস, এখানে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করলে শ্রীরামচন্দ্র ভক্তের মনোকামনা পূরণ করেন।
মন্দির কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার জানান, ১০ দিনব্যাপী চলা এই উৎসবে পূজা, আরতি ও ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মান্দা থানা প্রশাসন।

