আজকের ডেস্কঃ সারাদেশে জ্বালানি তেলের সাময়িক সংকটের সুযোগ নিয়ে অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির দায়ে ময়মনসিংহ, জামালপুর এবং নেত্রকোনায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (২৮ মার্চ) পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মোট ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের ফুলপুরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে বড় অংকের জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে ‘পপি ট্রেডার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৫ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। লাইসেন্স ছাড়াই এসব তেল মজুত করে চড়া দামে খুচরা বিক্রির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিক হাবিবুর রহমানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত তেল সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিকে জামালপুর শহরের পিটিআই মোড়ে অবস্থিত ‘মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজ’-এ অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদের উপস্থিতিতে এই অভিযান চলে।

অভিযোগে জানা যায়, সকাল থেকে শত শত মোটরসাইকেল চালক জ্বালানির জন্য ভিড় করলেও প্রতিষ্ঠানটি তেল নেই বলে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছিল। পরে অভিযানে গোডাউনে ১২টি ড্রামে ভর্তি ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোলের সন্ধান পাওয়া যায়, যা তাদের অফিসিয়াল রেজিস্ট্রারে উল্লেখ ছিল না। এই কারসাজির দায়ে ব্যবস্থাপক হালাল উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় অবৈধভাবে পেট্রোল মজুতের দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রামপুর বাজারে হার্ডওয়্যার ব্যবসার আড়ালে এনায়েতুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তার দোকানের পেছনে গোপন কক্ষে ৬টি ড্রামে প্রায় ৮০০ লিটার পেট্রোল লুকিয়ে রেখেছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নাজির আব্দুল আজিজ জানান, অধিক মুনাফার আশায় মজুত করায় ওই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি জব্দকৃত তেল প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে ফুলপুরের ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা এবং জামালপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মজুতদারদের রুখতে প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

