ইসলামাবাদে ইতিহাস: ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় মুখোমুখি ট্রাম্প-ইরান প্রতিনিধিদল

0
ইসলামাবাদে ইতিহাস: ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় মুখোমুখি ট্রাম্প-ইরান প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সংলাপে অংশ নিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে আলোচনার পরিবেশকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই আলোচনার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

যুদ্ধের মেঘ কাটিয়ে শান্তির টেবিলে গত ৮ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নাটকীয় ঘোষণায় জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধে তিনি ইরানের ওপর প্রস্তাবিত সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করছেন। সেই ঘোষণার রেশ ধরেই শনিবার শুরু হয় এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক।

পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকা এর আগে পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বললেও এবারই প্রথম সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি। প্রথম দফার আলোচনা শেষে দুই পক্ষই যৌথ নৈশভোজে অংশ নেয়, যা কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলোচনার টেবিলে ইরানের ‘১০ দফা’ ও প্রথম বড় জয়: ইরান এই আলোচনার জন্য একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে। আল-জাজিরার তথ্যমতে, আলোচনার প্রথম দিনেই ইরান বড় ধরণের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে। ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্থগিত করা সম্পদ (Frozen Assets) ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিশ্চিত করেনি, তবে এই সমঝোতার পরই ইরান মূল আলোচনায় বসতে সম্মত হয়।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও স্নায়ুযুদ্ধ: আলোচনা চলাকালীন সমুদ্রসীমায় উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কড়া নজরদারিতে রেখেছে। একই সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই মুভমেন্টের খবর দিলেও ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা তা নাকচ করে দিয়েছে। তবে এই উত্তেজনা আলোচনার টেবিলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বার্তায় অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আগামীকাল (রোববার) সকাল থেকে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হবে, যেখানে ১০ দফা প্রস্তাবের প্রতিটি বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে।

পুরো বিশ্বের চোখ এখন ইসলামাবাদের দিকে। এই আলোচনা কি দশকের পর দশক ধরে চলা মার্কিন-ইরান শত্রুতার স্থায়ী অবসান ঘটাবে? নাকি এটি সাময়িক কোনো বিরতি—তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: বিবিসি উর্দু, আল-জাজিরা, অ্যাক্সিওস ও তাসনিম নিউজ।