কোটালীপাড়ায় বিষাক্ত গুড় তৈরির ‘কারখানা’ সিলগালা: ১৫ মণ গুড় ধ্বংস, বড় জরিমানা

0
কোটালীপাড়ায় বিষাক্ত গুড় তৈরির ‘কারখানা’ সিলগালা: ১৫ মণ গুড় ধ্বংস, বড় জরিমানা

গোপালগঞ্জঃ চিনি, আটা আর ক্ষতিকর রাসায়নিকের মিশ্রণে তৈরি হচ্ছিল ‘খেজুরের গুড়’। জনস্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে নোংরা পরিবেশে বিষাক্ত এই কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছিল একটি চক্র। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কোটালীপাড়ার সেই ভেজাল গুড় কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কলাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগুফতা হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং ভাঙ্গারহাট নৌ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা।

তদন্তে দেখা যায়, ব্যবসায়ী চয়ন সরকার দীর্ঘদিন ধরে তার কারখানায় খেজুর বা আখের রসের পরিবর্তে নিম্নমানের উপকরণের মাধ্যমে গুড় তৈরি করছিলেন। জব্দকৃত উপকরণের তালিকায় ছিল নিম্নমানের চিটাগুড় ও প্রচুর পরিমাণ চিনি,হাইড্রোজ ও ফিটকিরি, অখাদ্য (নন-ফুডগ্রেড) রং ও ফ্লেভার। পচা ও নষ্ট মিষ্টি এবং ময়দা।

ইউএনও সাগুফতা হক জানান, ড্রামগুলোতে গুড় তৈরির যে মিশ্রণ পাওয়া গেছে, তাতে অসংখ্য পোকা ভাসছিল। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার ও কৃষি বিপণন আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে, কারখানার মালিক চয়ন সরকারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত প্রায় ১৫ মণ (৬০০ কেজি) ভেজাল গুড় তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না মর্মে মুচলেকা প্রদান করেন।

ইউএনও সাগুফতা হক বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। প্রতিটি ড্রামে পোকা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি প্রমাণ করে এরা মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গোপনে ভেজাল গুড় উৎপাদন হয়ে আসছিল। প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং এমন কঠোর শাস্তি অব্যাহত থাকলে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা কমে আসবে।