জ্বালানি তেল সংকটে পর্যটক শূন্যতায় শ্রীহীন সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা

0

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পর্যটক শূন্যতায় শ্রীহীন হয়ে পড়েছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। মূলত জ্বালানি সংকট আর দৈন্যতায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে জানালেন বিশেষজ্ঞরা। আর পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানালেন অসহায়ত্বের কথা।

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা নেই বললেই চলে। পরিবার খেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট, লেম্বুরবন, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর ও রাখাইন মার্কেট সবখানেই পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল একেবারে নগণ্য। সাধারণত ছুটির দিনে যেখানে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে, সেখানে ছিল নীরবতা।

পর্যটক কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সৈকতে বসে থাকা ফটোগ্রাফার, খাবারের দোকানদার, মোটরসাইকেল চালকরা সবারই একই চিত্র।

সৈকতের ফটোগ্রাফার আব্দুর রহিম বলেন, আগে শুক্রবার মানেই ছিল আমাদের জন্য ব্যস্ত সময়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্যামেরা নিয়ে দৌড়াতে হতো। দিনে অন্তত ২০-৩০ জন পর্যটকের ছবি তুলতাম। এখন পুরো দিন বসে থাকলেও ৪-৫ জন কাস্টমারও পাই না। অনেক সময় একেবারেই কাজ থাকে না। আয় না থাকায় সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। ক্যামেরার কিস্তি, পরিবারের খরচ সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

আচার ব্যবসায়ী রাসেল রুম্মান বলেন, আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। আগে ছুটির দিনে একদিনে যত বিক্রি হতো, এখন সেটা সপ্তাহেও হচ্ছে না। দোকান খুলে বসে থাকি, কিন্তু ক্রেতা আসে না। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। যদি এই অবস্থা আরও কিছুদিন চলে, তাহলে হয়ত ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবো। আবাসিক হোটেল সৈকত মালিক জিয়াউদ্দিন শেখ সাংবাদিকদের জানান, আমাদের রিসোর্টের মোট রুম সংখ্যা দু’শোর ওপরে, যার ৮০ শতাংশ পর্যটক পেতাম ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসা। পর্যটকের সংখ্যা একেবারে শূন্যের কোটায়।

যেখানে আমাদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে যায়, সেখানে রুম বুকিং পেয়েছি মাত্র ৫/৭ শতাংশ। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকবে না।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স সভাপতি আব্দুল মালেক শরীফ সাংবাদিকদের জানান, এখানে আমাদের বিপুল অংক বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু যে অবস্থা অবস্থা সব স্থবির হয়ে গেছে। পর্যটন না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে বড় ধরনের মুখে।