রংপুর ব্যুরোঃ পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দি হলেন আপন ভাবিকে ধর্ষণের মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং উপজেলা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা লিতুন মিয়া । মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে পৌর শহরের মন্ডলপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ।
মামলার নথিসূত্র অনুযায়ী, আজ থেকে চার বছর আগে মন্ডলপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করেন লিতুন। লোকলজ্জার ভয় উপেক্ষা করে ভুক্তভোগী নারী তখন বদরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ এই সময়ে পুলিশি তদন্ত, মেডিকেল রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনার পর আদালত লিতুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করে।
বাবার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে আশ্রয় নেওয়া ভুক্তভোগী নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এই পশুর মতো চরিত্রের দেবরের জন্য আমার সাজানো সংসার ভেঙে গেছে। স্বামীর ভিটায় টিকতে না পেরে আজ আমি বাপের বাড়িতে পড়ে আছি। আমি আদালতের কাছে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যা দেখে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”
গ্রেপ্তারের পর লিতুন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাইয়ের সাথে ভাবির সম্পর্ক ভালো ছিল না বলেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তার দাবি, মামলাটি আপস হয়ে গেছে, তবুও পুলিশ তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেপ্তার করেছে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লিতুন মিয়া (উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা)। নারী ও শিশু নির্যাতন (ধর্ষণ) মামলা। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ছাত্রলীগ নেতার এই কলঙ্কজনক অধ্যায় নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বিচার বিভাগ কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

