পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার সেতারা বেগম। ৮০ বছরের বৃদ্ধা। এ বয়সে এসেও একটু মাথা গোজার ঠাই নেই তার। নেই সামান্য আশ্রয় টুকুও। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে একটা ছোট্ট ঘরের আশায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে খুব ক্লান্ত সেতারা। তবে সেতারা বেগম একা নন। তাঁর মতো আরও অন্তত ৬০টি পরিবার একই অবস্থায় দিন কাটছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা শহরের ১ নং ওয়ার্ডের অরকা পল্লীতে।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ঘরেই নেই ঠিকমতো চালা, নেই নিরাপদ দেয়াল, এমনকি পর্যাপ্ত খাবারেরও অভাব রয়েছে। কেউ ত্রিপল টাঙিয়ে কোনো মতে মাথা ঢেকে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচেই দিন পার করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চরম আর্থিক সংকট। স্থানীয় পল্লীর বাসিন্দারা জানান, ২০০৭ সালের ধ্বংসযজ্ঞ সুপার সাইক্লোন সিডরে ঘরবাড়ি সহায়-সম্পদ এবং জীবন জীবিকা হারিয়ে আশ্রয় নেয় এই পল্লীতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই দারিদ্র্য আর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তবে এখনো ৬০টি পরিবার সেখানে টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু জানান, এই মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।
এদিকে উপকূল নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ডু সামথিং ফাউন্ডেশন’-এর সদস্য জাহিদুল ইসলাম জানান, “আমরা তাদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারব

