পুলিশ কনস্টেবলের হাত-পা ভেঙে ও পায়ের রগ কেটে দিল মাদক কারবারিরা

0
পুলিশ কনস্টেবলের হাত-পা ভেঙে ও পায়ের রগ কেটে দিল মাদক কারবারিরা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়া এবং মাদক কারবারিদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার জেরে আবুল কালাম (৩০) নামের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্যের ওপর পৈশাচিক হামলা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি দুই পায়ের রগ কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্য আবুল কালাম পেশাগতভাবে এপিএবনে কর্মরত।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তারাবো পৌরসভার মাসাবো এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন পুলিশ সদস্য আবুল কালাম। তিনি নিজ এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কিছুদিন আগে এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি শাহাদাত ও এমদাদুলকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন তিনি। এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মাদক চক্রটি। বিশেষ করে শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় কনস্টেবল কালামকে প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল মুঠোফোনে কল করে আবুল কালামকে উত্তর মাসাবো এলাকার একটি নির্জন বিলে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা শাহজালাল ও তার সহযোগিতায় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল কালামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও দুই পা নির্মমভাবে ভেঙে দেয় এবং পায়ের রগ কেটে নিশ্চিত মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।

পরে তার আর্তচিৎকারে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইউএস বাংলা হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে ইউএস বাংলা হাসপাতালের ম্যানেজার রনি হোসেন জানান, “গত রাতে আবুল কালাম নামের এক পুলিশ সদস্যকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমসহ পায়ের হাড় ভাঙা এবং রগে মারাত্মক জখম ছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।”

ঘটনার বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে, একজন আইনপ্রয়োগকারী সদস্যের ওপর এমন পৈশাচিক হামলার ঘটনায় পুরো তারাবো এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে কুখ্যাত মাদক কারবারি শাহজালাল ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।