রংপুরে আলু সংরক্ষণে অহিমায়িত মডেল ঘর, আশার আলো দেখছেন কৃষকরা

0
রংপুরে আলু সংরক্ষণে অহিমায়িত মডেল ঘর, আশার আলো দেখছেন কৃষকরা

জয়নাল আবেদীন: আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণনে অহিমায়িত মডেল ঘরে আশার আলো দেখছে রংপুরের চাষিরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকারের দেয়া মডেল ঘরে ২৫-৩০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের কারণে কৃষকের সাশ্রয় হবে বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকা। একটি অহিমায়িত মডেল ঘর তৈরি করলে ১৫ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য- আলু চাষীদের উপযুক্ত মূল্য প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বসতবাড়িতে আলু সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা।বর্তমানে আলু উৎপাদনে দেশের প্রথম জেলা রংপুর। তবে সংরক্ষণে পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় এবং ভরা মৌসুমে দাম না পাওয়ায় অধিকাংশ সময়ই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আলু চাষীরা। তাই কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আলু সংরক্ষণে রংপুর জেলার রংপুর সদরসহ বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, মিঠাপুকুর, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জে ১শ২১ টি অহিমায়িত মডেল ঘর নির্মাণ করেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। যেখানে কৃষক পর্যায়ে আলু সংরক্ষণ করে রাখা যাবে ৪-৬ মাস পযর্ন্ত।

ফলে কমবে লোকসানের শঙ্কা।কৃর্ষি বিপণন অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অহিমায়িত মডেল ঘর নির্মাণে ঘরের মাপ দৈর্ঘ- ২৫ ফিট, প্রস্থ- ১৫ ফিট ও উচ্চতা-১২ ফিট। মাটিতে ৫৪ টি পিলার। পিলারের উপর কাঠের মাচাং। এর চার পাশে সিমেন্ট এর পিলার ও বাশের খুটি আছে ও চতুর্দিকে বাশের ৬ ফিট বেড়া। উপরে আরএফএল এর নেট, যা দিয়ে ঘরে সহজে আলো বাতাস চলাচল করতে পারে, উপড়ে রঙ্গিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিন যা রোদের তাপ প্রতিরোধ করে এবং টিনের নিছে ককসিট দেয়া আছে যা আর একধাপ তাপ নিয়ন্ত্রণ এ কাজ করে। ঘরের ভিতরে চারটি গ্যাসপাইপ দেয়া আছে যা ঘরে কার্বনডাই অক্সাইড অতিক্রম করতে সহোযোগিতা করে।কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আরো জানায়, কৃষকদের নজর রাখতে হবে, বস্তা বিহীন অবস্থায় মাচা হতে ৫ ফিট উঁচু পর্যন্ত ২৫-৩০ মেট্রিক টন আলু সাধারণ তাপমাত্রা ও আদ্রতায় সংরক্ষণ করা যাবে।

আলু সংরক্ষণের নূন্যতম ৩ দিন পূর্বে মডেল ঘরটিতে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। কাটা, পঁচা, রোগাক্রান্ত ও অপরিপক্ক আলু বাছাই করে সংরক্ষণ করতে হবে। আলু সংরক্ষণ কালে মডেল ঘরে কমপক্ষে ০৪ টি গ্যাস পাইপ স্থাপন করতে হবে। মাঠ হতে আলু উত্তোলনের পর ছায়াযুক্ত স্থানে বাছাই করে মডেল ঘরে সংরক্ষণ করতে হবে।উপকার ভোগী সালাম, হালিম, মিলন নজরুল, সাইদ সহ কয়েকজন কৃষক বলেন, প্রতিবছর আলু চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও এখন অহিমায়িত মডেল ঘরে ২৫-৩০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করে হিমাগারের তুলনায় দুই লাখ টাকার বেশি সাশ্রয় হচ্ছে। এতে আমরা উপকার পাচ্ছি এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছি। এই ঘর নিজ উদ্যোগে বাড়াতে হবে নিজেদের স্বার্থে।কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা, মোঃ শাকিল আকতার জানান, “গৃহ পর্যায়ে আলু সংরক্ষণ করলে একদিকে যেমন কৃষক লাভবান হবে অন্যদিকে আরো উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব”।তিনি আরো বলেন, “এই ঘরটি কৃষকের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ, কারণ এটি শুধু একটি ঘর না এটি একটি ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান। এখানে আলু ছাড়াও, পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, মুখি কচু, মিষ্টি কুমড়া সংরক্ষণ করা যায়। এতে কৃষকরা ব্যপকভাবে লাভবান হচ্ছে”।

উল্লেখ্য- রংপুর জেলায় এবার ৫৪ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৬ লক্ষ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হলেও ৪১ টি হিমাগারে আলুর ধারন ক্ষমতা রয়েছে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। হিমাগারের বাহিরে আলু সংরক্ষণ করতে মডেল ঘর অনেক কার্যকরী ভুমিকা রাখছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।