জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে তুমুল হট্টগোল: অশালীন গালিগালাজের অভিযোগ

0
জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে তুমুল হট্টগোল: অশালীন গালিগালাজের অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিএনপি সরকারের অতীত কর্মকাণ্ড ও নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ ভবন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার তীব্র মন্তব্যের প্রতিবাদে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই ও হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলীয় কয়েকজন সদস্য।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় এই তুমুল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

সংসদে আলোচনার একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা নির্দিষ্ট চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না—এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, কিংবা গরীব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না”।

দেশের দুর্নীতি ও আর্থিক খাতের সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না—সেটাও সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণ খেলাপিতে দেশের সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করা এবং ঋণ খেলাপির পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া”।

রুমিন ফারহানার এসব বক্তব্যের পরপরই সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে হইচই করতে থাকেন। বক্তব্যের মধ্যে তৈরি হওয়া এই বাধাকে কেন্দ্র করে সংসদকে ‘অসহিষ্ণু’ দাবি করে রুমিন ফারহানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এত অসহিষ্ণু সংসদ! মনে হয় যেন আমরা একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। আওয়ামী লীগকে যখন সমালোচনা করে কিছু বলতাম, তখনও তারা হট্টগোল করত। এখন বিএনপিও একই ধরনের আচরণ করছে, বরং আরও খারাপ আচরণ দেখাচ্ছে”।

বর্তমান সংসদের বেশিরভাগ সদস্যকেই পরোক্ষভাবে ঋণখেলাপি বলে মন্তব্য করেন এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, “এ সংসদে বেশিরভাগ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের ঠিক আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজেদের নাম কাটানোর জন্য দ্রুত হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা—এটা আমাদের রাজনীতিতে পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখেছি”।

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ হয়ে গেলে তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন এবং অভিযোগ করেন যে তাঁকে মাইক ছাড়া অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও এ সময় প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন নারী সংসদ সদস্যকে সংসদে এভাবে অশালীন গালি দেওয়া যায় না।

হট্টগোল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “একজন মাননীয় সদস্যের স্বাধীনভাবে বক্তব্য রাখার অধিকার রয়েছে। অন্য কোনো সদস্যের বক্তব্য প্রদানে বাধা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। বক্তব্য পছন্দ না হলে নিজেদের বক্তব্য প্রদানকালে তা খণ্ডন করতে হবে”। চিফ হুইপ ও ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পরবর্তী আলোচনা শুরু হয়।