জোরপূর্বক জমি লিখে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সন্তান পুত্রবধূর বিরুদ্ধে

0
জোরপূর্বক জমি লিখে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সন্তান পুত্রবধূর বিরুদ্ধে

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ঘরে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে সন্তান ও পুত্রবধূ। জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে বৃদ্ধ জমসের আলী। উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি গ্রামে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী জমসের আলী পেশায় একজন কৃষক। স্ত্রী সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছিলেন সংসার। কিন্তু কয়েক বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তাঁর পা ভেঙে গেলে চলাফেরার সক্ষমতা হারান তিনি। সেই থেকেই যেন তাঁর জীবনে নেমে আসে এক অন্ধকার অধ্যায়। তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে পুত্রবধূ মর্জিনা সুকৌশলে স্বামী সালামকে চাপ প্রয়োগ করে শ্বশুরের ভিটেমাটি স্বামী সালামের নামে লিখে নেন। জমি লিখে নেওয়ার পর থেকেই বৃদ্ধ জমসের আলীর জীবনে নেমে আসে অবহেলা আর অমানুষিক নির্যাতনের বার্তা। পুত্রবধূ মর্জিনা সুকৌশলে পা ভাঙা বৃদ্ধ শ্বশুর জমসের আলীকে নির্যাতন করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে থাকতে দেন। যে ঘরে নাই দরজা জানালা। সামান্য বৃষ্টি হলে বসতঘর পানি পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে জমসের আলীকে একটি পরিত্যক্ত মাটির ঘরে রাখা হয়। ঘরের চালে অসংখ্য ফুটো—বৃষ্টির সময় পানি পড়ে ভিজে যায় সবকিছু। নেই বিদ্যুৎ, নেই ন্যূনতম বসবাসযোগ্য পরিবেশ। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে সেই ঘরেই কাটছিল তাঁর দিন-রাত—একজন অসহায় বৃদ্ধের নিঃশব্দ আর্তনাদে ভরা দিনযাপন।

প্রতিবেশী শামসুল হক বলেন, বৃদ্ধকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় না, দীর্ঘদিন গোসলও করানো হয়নি। ফলে তাঁর শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত তৈরি হয়। একসময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করা মানুষটি ধীরে ধীরে মানবেতর অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে। মানবিক কারণে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে এলেও পুত্রবধূর বাধার মুখে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নির্যাতনের শিকার জমসের আলী কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে বলেন, আমার সহায়-সম্পত্তি সব লিখে নিল তারা। এখন কেন আমাকে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে দিচ্ছে না? আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়ার উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ ঘটনাটি শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আমি ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে কথা বলব, যাতে তারা বৃদ্ধ বাবার থাকা-খাওয়া ও ভরণপোষণের যথাযথ ব্যবস্থা করে। অন্যথায়, আমি নিজে বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি আমি আজই জেনেছি। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ফোন করে সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভুঁঞা বলেন, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। দ্রুত সময়ের মধ্যে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।