ইতালিতে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত: বড় ভাইয়ের ভিডিও কলে নিথর ছোট ভাই, নেপথ্যে পারিবারিক কলহ

0
ইতালিতে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত: বড় ভাইয়ের ভিডিও কলে নিথর ছোট ভাই, নেপথ্যে পারিবারিক কলহ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুদূর ইতালির মাটিতে রক্তক্ষয়ী পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর যুবক নয়ন ফকির (২৪)। অভিযোগ উঠেছে, আপন বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি খুন হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে আসে যখন অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখান। ভিডিওতেই তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশের অভিযানে হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত নয়ন ও ঘাতক হুমায়ুন মুন্সীগঞ্জের পশ্চিম সোনারং গ্রামের দেলু ফকিরের সন্তান।

নিহতের ঘনিষ্ঠজন ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে পারিবারিক টানাপড়েন। ঘাতক হুমায়ুন ফকিরের দুটি বিয়ে ছিল। ঘটনার দিন তার প্রথম স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দেওয়ার কথা ছিল। ছোট ভাই নয়ন ফকির বড় ভাইকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানালে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিরোধই শেষ পর্যন্ত খুনে রূপ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, হুমায়ুন ফকির প্রায় ১২ বছর আগে লিবিয়া হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালিতে পাড়ি জমান। সেখানে থিতু হওয়ার পর গত ২০২৩ সালে নিজের ছোট ভাই নয়নকেও কর্মসংস্থানের জন্য ইতালিতে নিয়ে যান তিনি। বড় ভাইয়ের হাত ধরে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বিদেশে পাড়ি জমানো সেই নয়নকেই প্রাণ দিতে হলো বড় ভাইয়ের হাতে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু জানান, “পারিবারিক দ্বন্দ্বে ইতালিতে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই নিহত হওয়ার খবরটি আমরা জানতে পেরেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

বিদেশের মাটিতে দুই ভাইয়ের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে পশ্চিম সোনারং গ্রামজুড়ে এখন শোকের মাতম চলছে। প্রবাসী পরিবারের এমন পরিণতিতে বাকরুদ্ধ এলাকাবাসী।