ইরানে ‘শর্ট অ্যান্ড পাওয়ারফুল’ হামলার ছক পেন্টাগনের: ট্রাম্পের টেবিলে সেন্টকমের গোপন রণকৌশল

0
ইরানে ‘শর্ট অ্যান্ড পাওয়ারফুল’ হামলার ছক পেন্টাগনের: ট্রাম্পের টেবিলে সেন্টকমের গোপন রণকৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরানের কৌশলগত পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে ‘স্বল্পমেয়াদী কিন্তু বিধ্বংসী’ এক সামরিক পরিকল্পনার ছক কষছে মার্কিন সামরিক কমান্ড ‘সেন্টকম’ (CENTCOM)। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিশেষ প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দপ্তরে জমা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস এখনই বড় কোনো সংঘাতে জড়াতে চাইছে না বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই ‘শর্ট অ্যান্ড পাওয়ারফুল’ হামলার প্রস্তাবটি উপস্থাপন করলেও ট্রাম্প এখনও তাতে চূড়ান্ত সই করেননি। বরং ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত সামরিক হামলার চেয়ে ‘নৌ-অবরোধ’ এবং ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ (Economic Strangulation) নীতিকেই বেশি কার্যকর মনে করছে।

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, “বোমা বর্ষণের চেয়ে অবরোধ অনেক বেশি কার্যকর। ইরান এখন একটি ঠাসা শুকরের মতো দমবন্ধ অবস্থায় আছে এবং এই চাপ আরও বাড়বে।” মূলত তেহরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতেই এই ‘ব্লকেড’ বা অবরোধ কৌশল জারি রেখেছেন তিনি।

অন্যদিকে, মার্কিন এই চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে নারাজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এক কঠোর বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেশটির জাতীয় অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন “নব্বই মিলিয়ন গর্বিত ইরানি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে রক্ষা করবে। আর যারা হাজার মাইল দূর থেকে এই অঞ্চলে লোভ ও বিদ্বেষ নিয়ে আসছে, পারস্য উপসাগরের অতল তলদেশই তাদের একমাত্র জায়গা।”

আঞ্চলিক এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক সহায়তা। জানা গেছে, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটে ইসরায়েলের জন্য ৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন নিরাপত্তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘আইরন ডোম’ ও ‘অ্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে চাপে রাখতে ইসরায়েলকে এই বিপুল অস্ত্র সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার একটি কৌশল।

হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ এবং সামরিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেন্টকমের পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রস্তাবও রয়েছে, যা প্রয়োজনে স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দেয়।

সামগ্রিকভাবে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।