
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পারস্য উপসাগরে কয়েক দশকের পশ্চিমা আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে এক ‘নতুন অধ্যায়ের’ ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ওয়াশিংটনের কৌশলগত পরিকল্পনাকে ‘লজ্জাজনক ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইআরএনএ (IRNA)-তে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে খামেনি বলেন, “আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রচারণা ও আগ্রাসনের দুই মাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় লজ্জাজনক ব্যর্থতার পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।”
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো কার্যকর করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নতুন ফি বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গত দুই মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানকে ঘিরে যে সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, তা তেহরানের প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয়েছে। খামেনি উল্লেখ করেন যে, বিদেশি শক্তি যারা হাজার হাজার মাইল দূর থেকে এসে এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তাদের জন্য পারস্য উপসাগরের অতল তলদেশ ছাড়া আর কোনো জায়গা নেই।
খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান তার ন্যানো-প্রযুক্তি থেকে শুরু করে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা—সবকিছুই জাতীয় সম্পদ হিসেবে রক্ষা করবে। তিনি এগুলোকে ইরানের জল ও স্থল সীমানার মতোই সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস প্রবাহিত হয়। ইরানের এই কড়া অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে (ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে), যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরান প্রতি বছর ৩০ এপ্রিল ‘জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস’ পালন করে। ১৬২২ সালের এই দিনে পারস্যের সেনাবাহিনী পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক বাহিনীকে হরমুজ প্রণালি থেকে বিতাড়িত করেছিল। মোজতবা খামেনি সেই ঐতিহাসিক বিজয়কে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ৪০০ বছর আগে যেভাবে পর্তুগিজদের হঠানো হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্রকেও একইভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, বরং এটি ইরানের পক্ষ থেকে একটি কৌশলগত ‘শিফট’। দেশটি এখন তার নৌ-সীমানায় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে দরকষাকষিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, ইআরএনএ (IRNA)।
