নিজের বিয়েকে ‘অপহরণ’ সাজিয়ে ফেঁসে গেলেন বর: বাদীর বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

0
নিজের বিয়েকে ‘অপহরণ’ সাজিয়ে ফেঁসে গেলেন বর: বাদীর বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ প্রেমের বিয়েকে ‘জোরপূর্বক অপহরণ ও চাঁদা দাবি’ হিসেবে সাজিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে এখন নিজেই শ্রীঘরে যাওয়ার মুখে মো. নুরনবী ওরফে নুর হোসেন। নিজের পাতা জালে নিজেই আটকা পড়ে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের এই যুবক।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দীন এই নজিরবিহীন ও কঠোর আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরনবী প্রথমে বাদী হয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একটি নালিশি মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, জান্নাতুল ও তাঁর পরিবার তাঁকে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মারধর করেছে এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক বিয়ের রেজিস্ট্রি বইয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। নুরনবী দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৬৪ ও ৩৮৬ সহ বেশ কয়েকটি গুরুতর ধারায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (PBI) তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আঃ রহিমের তদন্তে বেরিয়ে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় হাসপাতালে চিকিৎসারত মায়ের সেবা করতে গিয়ে খালাতো বোন জান্নাতুলের সঙ্গে নুরনবীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উভয়ের সম্মতিতে এবং পারিবারিক উপস্থিতিতেই শরীয়াহ মোতাবেক তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। জোরপূর্বক বিয়ে বা অপহরণের কোনো প্রমাণ তো মেলেইনি, বরং এটি ছিল একটি স্বাভাবিক প্রেমের বিয়ে।

পিবিআই-এর প্রতিবেদনের পর আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, নুরনবী অসৎ উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগকে বিভ্রান্ত করতে এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারকে হয়রানি করতে এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন।

আদালত দণ্ডবিধির ২১১ ধারা (মিথ্যা মামলা দায়ের) অনুযায়ী নুরনবীর বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন এবং তাঁকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। কিন্তু চতুর নুরনবী নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় এবং কোনো জবাব না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এই আদেশের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আদালতের কাঁধ ব্যবহার করে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে উল্টো নিজেকেই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।