কাপাসিয়ায় মধ্যরাতে রক্তগঙ্গা: স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা করে ঘাতক স্বামীর ‘ফোন কল’

0
কাপাসিয়ায় মধ্যরাতে রক্তগঙ্গা: স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা করে ঘাতক স্বামীর ‘ফোন কল’

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের বলি হলেন একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান এবং শ্যালককে পৈশাচিক কায়দায় গলা কেটে হত্যার পর ঘাতক স্বামী নিজেই ফোন করে স্বজনদের জানিয়েছেন এই হত্যাকাণ্ডের কথা। বর্তমানে পলাতক ঘাতক ফোরকান মিয়া (৪০) পেশায় একজন ট্রাকচালক।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন ফোরকান। গতকাল গভীর রাতে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে তাঁর স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তিন মেয়ে—মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুলকে (২২) হত্যা করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাতক ফোরকান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। স্ত্রীকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে এবং বাকি চারজনকে বিছানায় শোয়া অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের মেঝে ও বিছানা এখন কেবলই জমাটবদ্ধ রক্তের ভাগাড়।

নিহতদের স্বজন মনির হোসেন জানান, ফোরকান তাঁর শ্যালক রসুলকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই দিন আগে নিজ বাসায় ডেকে আনেন। ধারণা করা হচ্ছে, শ্যালককে হত্যার পর যাতে কোনো বাধা না আসে, তাই তাকে আগেভাগেই কৌশলে আনা হয়েছিল।

নিহত শারমিন খানমের চাচি ইভা রহমান অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই ফোরকান যৌতুকের জন্য শারমিনের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। তিনি বলেন, “ফোরকান মাদকাসক্ত ছিল। যৌতুকের লোভ আর মাদকের নেশা থেকেই সে এই নির্মম কাণ্ড ঘটিয়েছে। খুনের পর সে আমাদের এক আত্মীয়কে ফোন করে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।”

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘাতক ফোরকান হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর ফোনের মাধ্যমে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঘাতককে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।”

এই ঘটনায় পুরো কাপাসিয়া এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।