রেকর্ড ভাঙা বিদ্যুৎ উৎপাদন: এক নজরে গ্রিডের চিত্র

0
রেকর্ড ভাঙা বিদ্যুৎ উৎপাদন: এক নজরে গ্রিডের চিত্র

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই দেশের বিদ্যুৎ খাতে যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। তীব্র চাহিদার মুখে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

গত বুধবার (২০ মে) রাত ৯টায় জাতীয় গ্রিডে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ডটি ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট, যা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই। ফলে মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে আগের রেকর্ডকে ৪০৬ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল দেশের বিদ্যুৎ খাত।

 এক নজরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিসংখ্যান: নতুন রেকর্ড (২০ মে, ২০২৬): ১৭,২০০ মেগাওয়াট পূর্ববর্তী রেকর্ড (২৩ জুলাই, ২০২৫): ১৬,৭৯৪ মেগাওয়াট উৎপাদন বৃদ্ধি: ৪০৬ মেগাওয়াট বিদ্যমান গ্রিডভিত্তিক মোট সক্ষমতা: প্রায় ৩০,০০০ মেগাওয়াট

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ (Heatwave) এই রেকর্ড চাহিদার মূল চালিকাশক্তি। গ্রীষ্মের চড়া তাপমাত্রার কারণে বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের ভাগে আবাসিক এলাকাগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (AC) এবং ফ্যানসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এই পিক-আওয়ার (Peak Hour) বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময়কে সফলভাবে সামাল দিতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে একটি চমৎকার সমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত।

কাগজে-কলমে দেশে বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট। তবে এই বিপুল সক্ষমতার পুরোটা সব সময় কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। এর পেছনে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে জ্বালানি (গ্যাস ও কয়লা) সরবরাহের ঘাটতি। কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা। সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য: রেকর্ড ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের মুহূর্তেও বুধবার রাতে সারাদেশে ৪৯৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন রেকর্ড ছুঁলেও চাহিদার শতভাগ জোগান দেওয়া এখনো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।

রেকর্ড উৎপাদনের এই সাফল্য দেশের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রযাত্রাকে প্রমাণ করলেও, শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সঞ্চালন লাইনের আধুনিকায়ন অপরিহার্য। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সচেতনতা এবং এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা (২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ কিছুটা হলেও কমানো যায়।