
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দেওয়া সেই ‘সেলিব্রেটি’ অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ শেষ পর্যন্ত কোরবানি হওয়া থেকে বেঁচে গেল। ক্রেতার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে বিরল প্রজাতির এই সাদা মহিষটিকে এখন ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় বিশেষ হেফাজতে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে সেটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুর এলাকার ক্রেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে থানা চত্বরেও উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় জমে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুছ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন “নিরাপত্তা ও প্রাণীটির বিরল প্রজাতি বিবেচনায় নিয়ে এর মূল ক্রেতার বাসা থেকে মহিষটিকে আমাদের হেফাজতে আনা হয়েছে। এটি যেহেতু সাধারণ কোনো পশু নয়, তাই সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এটিকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করার জোর প্রস্তুতি চলছে।”
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্মে’ জন্ম নেওয়া প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই শ্বেতশুভ্র (অ্যালবিনো) মহিষটি হাটে আসার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিল। তবে বিক্রির পর ক্রেতার এলাকায় সেটিকে দেখতে মানুষের হুড়োহুড়ি ও উন্মাদনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সেখানে বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দেয়।
জনগণের নিরাপত্তা ও পশুর সুরক্ষার কথা চিন্তা করে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই নজিরবিহীন বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তাঁর বিশেষ নির্দেশনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেরানীগঞ্জের ওই শৌখিন ক্রেতাকে পশুর পুরো মূল্য ফেরত দেওয়া হয় এবং মহিষটির কোরবানি স্থগিত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জননিরাপত্তা রক্ষা ও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যই এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত মহিষটিকে রাষ্ট্রীয় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে লালন-পালন করা হবে।”
মাথার ওপরের সোনালী-সাদা চুলের স্টাইল ও গায়ের রঙের কারণে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাদৃশ্য রেখে খামারিরা এর নাম দিয়েছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই মহিষটি কেবল বাংলাদেশের মানুষের কৌতূহলই মেটায়নি, বরং বৈশ্বিক গণমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে। বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্স (Reuters), এএফপি (AFP) ছাড়াও দি টেলিগ্রাফ, দি মিরর, নিউইয়র্ক পোস্ট, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর, ম্যানিলা টাইমস এবং গালফ নিউজ এর মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই অ্যালবিনো মহিষটিকে নিয়ে সচিত্র বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই বিরল প্রাণীটি শেষ পর্যন্ত চিরতরে বেঁচে গেল এবং এর স্থায়ী ঠিকানা হতে যাচ্ছে সরকারের কোনো উপযুক্ত অভয়ারণ্য কিংবা জাতীয় চিড়িয়াখানা।
