জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক অবুঝ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মো. লিটন মিয়া (৪৮) নামের এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে কাস্টডিতে নেয়।
গ্রেপ্তারকৃত লিটন মিয়া উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত ছকমান আলীর ছেলে। সম্পর্কে তিনি ওই শিশুটির প্রতিবেশী চাচা হন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবা দুজনেই চরম অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। ওই প্রতিবন্ধী কন্যাসন্তানসহ তাদের অন্য ছেলেমেয়েরা গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির তত্ত্বাবধানে থাকত।
গত ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাধানগর গ্রামের বাড়িতে ওই শিশুকে একা পেয়ে লিটন মিয়া ফুসলিয়ে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয়। এ সময় শিশুটির আকুল চিৎকারে অভিযুক্ত লিটন মিয়ার নিজের স্ত্রী ঘটনাস্থলে চলে আসলে তিনি লম্পট লিটন শিশুটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরে ঘটনাটি যেন কেউ জানতে না পারে, সেজন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মুখ বন্ধ রাখতে হাতে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই অবুঝ শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার দাদা-দাদির কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পুরো ঘটনাটি জানায়। কিন্তু গ্রামের চিরন্তন ‘লোকলজ্জা’ ও সামাজিক হেনস্তার ভয়ে ওই বৃদ্ধ দাদা-দাদি প্রথম দিকে বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন।
পরবর্তীতে গত ২৬ মে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে শিশুটির মা-বাবা ঢাকা থেকে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে ফিরলে, অবরুদ্ধ সত্যটি তাদের সামনে আসে। মেয়ের শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় দেখে মা-বাবা চেপে ধরলে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এরপর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
চোখের জল মুছতে মুছতে হতভাগ্য পিতা বলেন “আমার মেয়েটা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী, নিজে ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারে না। তার সাথে এমন পশুতুল্য আচরণ করা হলো! লোকলজ্জার ভয়ে আমার বৃদ্ধ বাবা-মা প্রথমে মুখ খোলেননি। আমি ঢাকা থেকে ফিরে সব শুনেই থানায় গিয়েছি। আমি এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক ও ফাঁসির বিচার চাই।”
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ঘটনার নৃশংসতা নিশ্চিত করে জানান ভুক্তভোগী শিশুর বাবার লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই তা আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা ও ফরেনসিক প্রমাণের জন্য তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই পৈশাচিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাধানগর গ্রামসহ পুরো সরিষাবাড়ী উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

