মার্কিন হামলায় ধ্বংস ইরানের ৫ তেল ট্যাংকার, জর্দানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ

0
মার্কিন হামলায় ধ্বংস ইরানের ৫ তেল ট্যাংকার, জর্দানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক মোড় নিয়েছে। ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপে ইরানের ৫টি বিলাসবহুল তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ মার্কিন হামলার জবাবে জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ২০টি বালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। এতে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই অভূতপূর্ব সরাসরি সামরিক সংঘাতের খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানি আক্রমণের ব্যর্থ চেষ্টার পর এই প্রতিশোধমূলক অ্যাকশন নেওয়া হয়। ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ৪টি ট্যাংকার এবং দেশটির মূল তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলে ১টি ট্যাংকার সরাসরি মার্কিন বিমান ও নৌ-হামলায় ধ্বংস হয়।

তেল ট্যাংকার ধ্বংসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাবে জর্দানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ইরান। জর্দানের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টিই আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে। বাকি ২টি জনশূন্য স্থানে পড়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হামলার পরপরই আইআরজিসি নৌবাহিনী এক জরুরি সতর্কবার্তায় কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে অবস্থানরত সকল মার্কিন সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজের ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এসব নোঙর করা ও চলাচলকারী জাহাজে রকেট হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অত্যন্ত কঠোর ভাষায় কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, *”ইরান যতবার মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর আক্রমণের স্পর্ধা দেখাবে বা চেষ্টা চালাবে, ততবারই তারা তাদের অত্যন্ত মূল্যবান তেলবাহী ট্যাংকার হারাবে।”* ওয়াশিংটন আরও দাবি করে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব ট্যাংকার আইআরজিসির বহুজাতিক অবৈধ অর্থায়নের ‘শ্যাডো নেটওয়ার্ক’ বা ছায়া ব্যবসার মূল ভিত্তি ছিল।

ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয় খার্গ দ্বীপের পাইপলাইন ও টার্মিনাল দিয়ে। সেখানে মার্কিন হামলা ইরানের মূল অর্থনৈতিক ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বরও একই কায়দায় ৩টি ইরানি ট্যাংকার উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

দুই পরাশক্তির সংঘাত মুহূর্তের মধ্যে আছড়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর। এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫% লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪১ ডলারে ঠেকেছে। পাশাপাশি মার্কিন বাজারে তেলের দাম ১.৬% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪.৫৫ ডলারে উঠেছে।

গত এক সপ্তাহের এসব লাগাতার সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করেছে।