বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজপথে দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্রদের প্রতি ঐক্যের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্দোলনের কঠিন সময়ে আড়ালে থেকে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর আবির্ভূত হওয়া তথাকথিত ‘গুপ্তবাহিনীর’ ব্যাপারে শরিক নেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। আগামীতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”
রাজপথের শরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ভাই হিসেবে ধৈর্য ধরার অনুরোধ থাকবে। মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে নিজেদের মধ্যে বিভেদ বা ভুল বোঝাবুঝির কোনো স্থান নেই। বিএনপি-সহ যুগপৎ আন্দোলনের দলগুলোর মূল শক্তি সাধারণ জনগণ। ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা ও জুলাই সনদের আলোকেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে না থেকেও অনেকে আজ অর্জনের দাবিদার হতে চাইছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যাদেরকে একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষ চেনে, আন্দোলন সংগ্রামের কঠিন সময়ে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ স্বৈরাচার বিদায়ের পর তারা আত্মপ্রকাশ করেছে।”
বিগত স্বৈরাচার সরকারের রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি টেবিলে গিয়ে শরিক ও জোট নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বুফেতে সবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে খাবার গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান এবং বিভিন্ন সমমনা দল (গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিজেপি, গণফোরাম, এনডিএমসহ মোট ৪১ দল)-এর শীর্ষনেতৃবৃন্দ নৈশভোজে অংশ নেন।

