জুয়েল হত্যা: ৬ দিন পর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, নিরপরাধদের অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন

0
জুয়েল হত্যা: ৬ দিন পর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, নিরপরাধদের অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন

কুলিয়ারচর প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অটোরিকশাচালকের ছেলে জুয়েল মিয়া (২০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে দাবি করে তাদের অব্যাহতির দাবিও জানানো হয়েছে।

রোববার (২০ জুলাই) বাদ আছর উপজেলার আগরপুর–পোড়াদিয়া সড়কের বড়চারা নতুন বাজার এলাকায় “১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ” ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামছুল আলম (এলেম), উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মো. ইমরান খান এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনের ভাই শাহ আলম। এতে বড়চারা ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা “জুয়েল হত্যার বিচার চাই”, “সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দাও” এবং “নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়ে শামছুল আলম (এলেম) বলেন, আদালত থেকে মামলার কপি সংগ্রহ করে তিনি জানতে পেরেছেন, তাকে ১১ নম্বর, তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে তৌকি মিয়াকে ২ নম্বর, ভাতিজা ছায়িম মিয়াকে ৮ নম্বর, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনকে ১ নম্বর এবং তার ছেলে সানিকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৯ নম্বর আসামি সোহান মিয়া ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তাদের কেউই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে নিরপরাধদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান তিনি।

এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মো. নাদিরুজ্জামান খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহুল হক খোকা, বিএনপি নেতা মো. সেলিম মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য সাফি উদ্দিন এবং ইউনিয়ন তরুণ দলের সাবেক সভাপতি মো. নাঈম আনোয়ারসহ অন্যরা।

বক্তারা জুয়েল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবি জানান।

এর আগের দিন শনিবার একই স্থানে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আরেকটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমবাহী গাড়িতে করে জাফরাবাদ মোড় থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের পশ্চিম পাশে একদল দুর্বৃত্ত গাড়ির গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও নিহত জুয়েল ওই বিরোধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।

ঘটনার পর দফায় দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, কুলিয়ারচর থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় নিহতের বাবা মো. কুদ্দুস মিয়া গত ১৬ জুলাই কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ বিএনপির দুই নেতাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

বাদী কুদ্দুস মিয়ার দাবি, পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

অন্যদিকে, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।