চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রাম নগরে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন আবাসিক শিক্ষার্থীকে একাধিকবার জঘন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। নগরের চান্দগাঁও থানাধীন বাহির সিগন্যাল এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফফর হোসেন।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকের নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় এক মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আবাসিক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। গত ২ জানুয়ারি রাতে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে কৌশল করে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে মারধরের হুমকি দিয়ে তাকে প্রথমবার বলাৎকার করা হয় এবং ঘটনাটি কাউকে প্রকাশ না করার জন্য প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়।
পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতায় ওই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার নির্যাতন করা হয়। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আবারও ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর। বাধ্য হয়ে সে মাদ্রাসা থেকে পরিবারের কাছে ফিরে পুরো নৃশংসতার কথা খুলে বলে।
ঘটনা শোনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে গত শনিবার (১৮ জুলাই) নগরের চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই গা-ঢাকা দেয় অভিযুক্ত শিক্ষক।
র্যাব-৭-এর কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাহির সিগন্যাল এলাকা থেকে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে সংশ্লিষ্ট চান্দগাঁও থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকের এমন জঘন্য ও নৈতিকতাহীন অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীর কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও সুশীল সমাজ।

