নাটোরে চার বছরের শিশুর সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক স্বামীকে গণপিটুনি

0
নাটোরে চার বছরের শিশুর সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক স্বামীকে গণপিটুনি

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে চার বছরের অবুঝ শিশুর চোখের সামনে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বুলবুলি খাতুনকে (২৪) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আব্দুল্লাহকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কুঞ্চীভদ্রা গ্রামে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুঞ্চীভদ্রা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী বুলবুলি খাতুনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছিল। মঙ্গলবার বিকেলেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আব্দুল্লাহ ধারালো অস্ত্র এনে স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

ঘটনার সময় ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে চরম আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে তাঁদের চার বছরের নিষ্পাপ শিশুকন্যা। মায়ের ওপর বাবার এমন বিভৎস নৃশংসতার দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করে অবুঝ শিশুটি।

মা ও মেয়ের গগনবিদারি আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা ঘরে ঢুকে বুলবুলি খাতুনকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত স্বামী আব্দুল্লাহ। তবে ঘটনা জানাজানি হতেই গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনতা চারদিক ঘেরাও করে তাঁকে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে গ্রামে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে সিংড়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত কুঞ্চীভদ্রা গ্রামে পৌঁছায়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসাপাতালের মর্গে পাঠায় এবং স্থানীয়দের হাত থেকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহকে রক্তাক্ত অবস্থায় হেফাজতে নেয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, “পারিবারিক কলহের জেরে চার বছরের মেয়ের সামনেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহত অবস্থায় আটক অভিযুক্ত আব্দুল্লাহকে পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে এমন নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো কুঞ্চীভদ্রা গ্রামে চরম শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ঘাতক স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।