বগুড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! ২ ধর্ষক গ্রেফতার

0
বগুড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! ২ ধর্ষক গ্রেফতার

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া সদর উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ও নৃশংস অভিযোগ উঠেছে। পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়ন থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন মাহবুবুর রহমান ফাঁপোড় পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত লাল চান ফকিরের ছেলে ও বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পিয়ন (বর্তমানে পলাতক)। আলমগীর হোসেন একই এলাকার আজিজুল সোনারের ছেলে (পুলিশের হেফাজতে)। শহিদুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে (পুলিশের হেফাজতে)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটির স্বামী দীর্ঘদিন ধরে একটি মাদক মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে এবং নারীর মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ৩ জন বিভিন্ন সময় তাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে।

নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সম্প্রতি ভুক্তভোগীর স্বামী জামিনে কারামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নারী তার ওপর হওয়া এই পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো গ্রামে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত আলমগীর ও শহিদুলকে ধরে ফেলে এবং উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি আজিজুল হক কলেজের পিয়ন মাহবুবুর রহমান পরিস্থিতি টের পেয়ে গা ঢাকা দেয়।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ক্ষুব্ধ জনতার হাতে আটক দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত পলাতক মাহবুবুরকে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”