আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও কূটনীতির ময়দানে এক নজিরবিহীন চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে কোনো পেশাদার কূটনীতিককে নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)-র বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান তিনি। বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে একতা তৈরি ও শান্তির বার্তা ছড়াতে ইনফান্তিনোর বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে বলেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন ভাবনা ভাবছেন।
গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি উঠে আসে।
৫৮ বছর বয়সী সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ইনফান্তিনোর সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের রসায়ন বেশ পুরোনো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবল ফুটবল চলাকালীন দু’জনের মধ্যে দারুণ ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ফিফার ইতিহাস তৈরি করা প্রথম ‘পিস প্রাইজ’ (শান্তি পুরস্কার) তুলে দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। ট্রাম্পের বিশ্বাস, ইনফান্তিনোর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশাল ক্রীড়া সাম্রাজ্য পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিশ্ব রাজনীতিতে বিরাজমান নানা বিভাজন দূর করতে সাহায্য করবে।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ বছরের জন্য নতুন প্রধান দায়িত্ব নেবেন। তবে ট্রাম্পের এই ইচ্ছে পূরণ হওয়া একেবারেই সহজ নয়, কারণ জাতিসংঘের নিয়মকানুন বেশ জটিল:
জাতিসংঘ সনদের ৯৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রথমে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) যেকোনো একটি দেশ যদি ভিটো (Veto) প্রয়োগ করে, তবে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতা মুহূর্তেই বাতিল হয়ে যাবে। নিরাপত্তা পরিষদের ইতিবাচক সুপারিশের পর ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে বেশ কড়া সমালোচনা করে আসছেন। ক্ষমতার মসনদে ফেরার পর থেকে তিনি জাতিসংঘের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন।
ইতিমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বাৎসরিক আর্থিক অনুদান উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-সহ জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী ফিফা সভাপতিকে জাতিসংঘ প্রধান বানানোর এমন পরিকল্পনা বিশ্বরাজনীতিতে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

