পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে মক্তবের ভেতরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৬) জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগে মো. ইব্রাহিম নামের এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। ঘটনাটি গোপন রাখতে শিশুটিকে পাঁচ টাকার একটি নোট দিয়ে ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের একটি স্থানীয় মক্তবে হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত শিক্ষক মো. ইব্রাহিম একই এলাকার মক্তব পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে শ্রীরামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শিশু মোস্তাকিম মক্তবে পড়তে যায়। অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম শিশুটিকে একা পেয়ে একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক বলাৎকার করেন।
ঘটনা ঘটানোর পর বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয় এবং মুখে কুলুপ আঁটতে তার হাতে নগদ ৫ টাকার একটি নোট গুঁজে দেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটি মক্তব থেকে বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি করতে করতে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিমকে মক্তব এলাকা থেকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরবর্তীতে দুমকি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম দাবি করেছেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। স্থানীয় একটি চক্র আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, শিশুটিকে নিগ্রহের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে ।”

