চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দম্পতির মধ্যকার দীর্ঘদিনের কলহ এক ভয়াবহ নৃসংসে রূপ নিয়েছে। ভোররাতে স্বামী ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় তাঁর হাত-পা বেঁধে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পুরুষাঙ্গ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ রাসেল (৩০)। তিনি পেশায় একজন পিকআপ চালক এবং উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী মনি আক্তারকে (২৫) ঘটনাস্থল থেকেই স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রতিবেশী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পিকআপ চালক রাসেলের সঙ্গে অন্য এক নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অশান্তি ও ঝগড়াঝাঁটি চলছিল। বুধবার রাতেও তাঁদের মধ্যে বেশ তর্কাতর্কি হয়। পরে রাতে তাঁরা একই ঘরে ঘুমাতে যান।
ভোররাতের দিকে রাসেল গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলে স্ত্রী মনি অত্যন্ত কৌশলে রশি দিয়ে তাঁর হাত-পা বিছানার সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। এরপর ঘর থেকে ধারালো দা এনে স্বামীর পা ও নিম্নাঙ্গে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তাঁর লিঙ্গ কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। রাসেলের আর্নাদ ও চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে এবং মনিকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে।
ঘটনাস্থল থেকে রক্তক্ষরণরত রাসেলকে উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত পার্শ্ববর্তী মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর আঘাত অতীব মারাত্মক হওয়ায় ও আশঙ্কাজনক মাত্রায় রক্তক্ষরণ হতে থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর অস্ত্রোপচার ও জীবন বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের হাত থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী মনি আক্তারকে নিজেদের জিম্মায় নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, “প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পারিবারিক কলহের জেরেই এই জঘন্য হামলার প্রমান পাওয়া গেছে। আলামত হিসেবে রক্তমাখা দা ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্ত্রী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান।”

