পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে ঘটায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকা। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় বাউফল প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে বাউফল প্রেসক্লাবের ‘বীর উত্তম শামসুল আলম মিলনায়তনে’ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন নাজিরপুর-তাঁতেরকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি নেতা ফরিদ তালুকদার। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা নাগাদ প্রেসক্লাবের বাইরে বের হলে একই ইউনিয়নের অপর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পলাশের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এককভাবে প্রচারণামূলক মতবিনিময় সভা করা নিয়ে প্রথমে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া থেকে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হন।
উল্লেখ্য, সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া দুই নেতাই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রভাবশালী শিল্পপতি প্রকৌশলী এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদারের রাজনৈতিক বলয়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে বিশেষ বিষয় হলো—সম্ভাব্য প্রার্থী ফরিদ তালুকদার সম্পর্ক অনুযায়ী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ তালুকদারের আপন ছোট ভাই। একই বলয়ের রাজনীতি করলেও নাজিরপুর-তাঁতেরকাঠি ইউপি নির্বাচনে দলীয় সমর্থন ও প্রার্থিতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে গড়াল।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে একজনের মাথায় মারাত্মক আঘাত থাকায় উন্নত পরীক্ষা ও সিটি স্ক্যানের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহতরা বর্তমানে শঙ্কমুক্ত আছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনার পর পরই বাউফল শহরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ সহিংস হামলার ঘটনায় মাসুম বিল্লাহ পলাশ ও তাঁর ১৫ জন সমর্থকের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”
রাজনৈতিক এই সংঘাতের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোড়ে মোড়ে টহল বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

