ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ আইন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো ‘জুলাই সনদের’ মূল ভাবধারা ও সাংবিধানিক কাঠামো অনুসরণ করেই চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য জেলা বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইন সংস্কার কমিশন বিভিন্ন বিষয়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রায় সবগুলোই গ্রহণ করেছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের মূল চেতনার আলোকেই আইনগুলোর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, দেশের সম্ভাবনাপূর্ণ পর্যটন খাতকে আধুনিকায়ন করতে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (Master Plan) হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বাংলাদেশ, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে কড়া বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে এনসিপির সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।”
রাজনৈতিক ঐক্যের স্বার্থে এনসিপিকে বার্তা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে এনসিপি যদি দেশের কোথাও কোনো সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে চায়, তবে বিএনপি সর্বাত্মক রাজনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করবে।”
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত বৃক্ষমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

