এসএসসি পরীক্ষার্থীর শারীরিক রূপান্তর: ‘কেয়া আক্তার’ থেকে ‘কাবির দেওয়ান’, উৎসুক জনতার ভিড়

0
এসএসসি পরীক্ষার্থীর শারীরিক রূপান্তর: 'কেয়া আক্তার' থেকে 'কাবির দেওয়ান', উৎসুক জনতার ভিড়

সুমন গাজীঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক কামরাঙ্গাচালা এলাকায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর শারীরিক গঠন পরিবর্তন হয়ে পুরুষে রূপান্তরিত হওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কেয়া আক্তার নামে পরিচিত ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছে বলে তার পরিবার দাবি করেছে। তার নতুন নাম রাখা হয়েছে আব্দুর কাবির দেওয়ান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে এ ঘটনাটি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে হাজারো কৌতূহলী মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য তাদের বাড়িমুখী হতে থাকেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুর কাবির দেওয়ান (পূর্বনাম কেয়া আক্তার) কালিয়াকৈরের মৌচাক কামরাঙ্গাচালা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ানের সন্তান। সে স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের একজন শিক্ষার্থী এবং চলতি ২০২৬ সালের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রথম তার শরীরে বিভিন্ন লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কণ্ঠস্বর, হাবভাব ও শারীরিক গঠনে পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে পারিপার্শ্বিক সামাজিক সংকোচ, পরিবারের ভয় ও লোকলজ্জার কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই পরিবর্তন পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়ে পড়লে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গোপন রাখা সম্ভব হয়নি এবং তা জানাজানি হয়ে যায়।

ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, “মেয়েটি আমাদের স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কেয়া আক্তার নামেই ক্লাস ও পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েছে। গত কিছুদিন আগে আমরা তার শারীরিক এই পরিবর্তনের কথা জানতে পারি। বিষয়টি অত্যন্ত বিরল ও অপ্রত্যাশিত হলেও ঘটনাটি সত্যি বলে পরিবারের সদস্যরা আমাদের অবহিত করেছেন।”

সাধারণত চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, বয়ঃসন্ধিকালে মানবদেহে হরমোনজনিত বা ক্রোমোজোম ও জেনিটাল ডিসঅর্ডার (Disorders of Sex Development বা DSD)-এর কারণে কোনো কোনো ব্যক্তির শরীরে বিপরীত লিঙ্গের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হতে পারে।

তবে কালিয়াকৈরের এই ঘটনার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা হরমোন চিকিৎসকের (Endocrinologist) আনুষ্ঠানিক ও লিখিত মতামত পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় পরিবারের মৌখিক দাবির ওপর ভিত্তি করেই তথ্যটি প্রচারিত হচ্ছে।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মৌচাক কামরাঙ্গাচালা এলাকার আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ানের বাড়িটি এখন পুরো উপজেলার প্রধান আকর্ষণবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কালিয়াকৈরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমাচ্ছেন। কৌতূহলী মানুষকে সামলাতে গিয়ে পরিবারটি চরম ভোগান্তি ও মানসিক চাপের মুখে পড়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য পরিবারটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।