বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘জুলাই আন্দোলন’-এর সংগঠক ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাজনৈতিক দল ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’ (এনডিবি)-এর চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী এবং জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ৬ শীর্ষ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
গ্রেপ্তার হওয়া অপর ৫ আসামি হলেন—নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল এবং হরিদাস সরকার।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিল নিয়ে সমাবেশ করে নতুন ধারা বাংলাদেশ। কর্মসূচি চলাকালে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম কর্মী বাবুল সরকার এবং ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ)-এর সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ কতিপয় সদস্য উপস্থিতি হয়ে তাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, প্রতিবাদ জানানোর পরপরই আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি, দেশীয় অস্ত্র, এসএস পাইপ, প্লাস্টিকের চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ আন্দোলনের বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর রক্তাক্ত আহত হন। আহত আয়াসকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে আহতরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানেও দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে অবরুদ্ধ থাকার পর গভীর রাতে অতিরিক্ত পুলিশি পাহারায় শান্তা ফারজানাসহ আহত ৬ নেতাকর্মীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় শাহবাগ থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ভুক্তভোগী বাবুল সরকার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারনামীয় ৬ জন এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন অভিযুক্তদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে এবং মামলার এজাহার অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম ও আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

