
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: এক হাতে ক্রেস্ট, অন্য হাতে সনদ—মুখজুড়ে নির্মল হাসি। কেউ বারবার নিজের নাম লেখা সনদের দিকে তাকাচ্ছে, কেউ বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরেছে পুরস্কার। পাশে দাঁড়িয়ে বাবা-মায়ের চোখে গর্বের ঝিলিক। ছোট্ট এই অর্জন যেন তাদের কাছে শুধু একটি বৃত্তি নয়—বড় স্বপ্ন দেখার সাহস।একেকটি মুখে একেকটি স্বপ্ন। কারও চোখে চিকিৎসক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, কেউ হতে চায় প্রকৌশলী, কেউবা শিক্ষক কিংবা দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নের পথচলায় মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সম্মাননা পেল বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ৪২ কৃতী শিক্ষার্থী।
শুধু ক্রেস্ট কিংবা সনদ নয়—তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বৃত্তির অর্থও। আর এই স্বীকৃতি যেন ছোট্ট শিক্ষার্থীদের মনে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। অভিভাবকদের চোখেমুখেও ছিল গর্বের ছাপ। শনিবারের এমন আয়োজন মোরেলগঞ্জ মডেল একাডেমির বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে পরিণত করে আনন্দ, উৎসাহ ও স্বপ্নের এক মিলনমেলায়।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৪২ শিক্ষার্থীকে এই সম্মাননা দিয়েছে মোরেলগঞ্জ মডেল একাডেমি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা (অব.) আলহাজ্ব মো. সুলতান আহম্মেদ ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন,মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ডক্টর রুহুল আমিন খান,ছবির আহম্মেদ আখন্দ, বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন সামাদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা হাসি, শিক্ষক মেরাজুল ইসলাম খসরু, শিক্ষক মিজানুর রহমান, শহিদুল ইসলামসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর মেধার স্বীকৃতি শুধু তাকে ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহিত করে না; একই সঙ্গে তার সহপাঠীদের মধ্যেও ভালো করার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। বৃত্তি ও সম্মাননা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
তবে বক্তাদের মতে, ভালো ফলাফলই শিক্ষার শেষ কথা নয়। মেধার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে গড়ে তুলতে হবে। অর্জিত জ্ঞান যেন ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে—সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল এর সঞ্চালনা। মোরেলগঞ্জ মডেল একাডেমির দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থী ইংরেজিতে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের দৃষ্টি কাড়ে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ মাহমুদ রুবেলও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
পরে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৪২ শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেন।
পুরস্কার হাতে পাওয়ার মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। কেউ হাসছিল, কেউবা আপনজনের দিকে তাকিয়ে নিজের অর্জন ভাগ করে নিচ্ছিল। অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল সন্তানের সাফল্যের গর্ব।
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও সম্মান জানানো হলে তারা আরও বড় স্বপ্ন দেখতে শেখে। এ ধরনের আয়োজন তাদের সন্তানদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃত্তি, সম্মাননা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
একটি ক্রেস্ট, একটি সনদ কিংবা কিছু অর্থ—মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর কাছে এর অর্থ অনেক বড়। এটি তার মেধার স্বীকৃতি, পরিশ্রমের মূল্যায়ন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
মোরেলগঞ্জের ৪২ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া এই সম্মাননা তাই কেবল একটি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান নয়; বরং তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। আজকের এই ছোট্ট মুখগুলোই একদিন হয়তো দেশের বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে—সেই প্রত্যাশায় মেধার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
ফটো ক্যাপশন: মোরেলগঞ্জে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৪২ শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বৃত্তির অর্থ তুলে দিচ্ছেন অতিথিরা। ছবি সংযুক্ত আছে।
