১ হাজার টাকার বান্ডিলে ১০০ টাকার নোট: অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

0
১ হাজার টাকার বান্ডিলে ১০০ টাকার নোট: অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানাধীন লালদীঘি পাড়ে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে গ্রাহকের আমানতের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভল্টের টাকা সরিয়ে তা দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিলাসবহুল গরুর খামার। আলামত হিসেবে আসামিদের কাছ থেকে ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত একটি ৬৪ জিবির পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন শেষে ভল্টের সংরক্ষিত নগদ অর্থ মেলানোর সময় প্রথম গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বিস্তারিত নথি ও ভল্ট যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বিশাল ঘাটতি রয়েছে।

ভল্টে জমা রাখা ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলগুলোর ওপর-নিচে ১ হাজার টাকার নোট রাখা হতো। বান্ডিলের ভেতরের অংশ ১০০ টাকা কিংবা তার চেয়েও কম মূল্যমানের নোটে ভর্তি করে রাখা হতো। বাইরে থেকে দেখে ভল্ট পূর্ণ মনে হলেও ভেতরে ছিল লাখ লাখ টাকার ঘাটতি।

পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ভল্ট থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলে সরিয়ে নেওয়া টাকার একটি বড় অংশ দিয়ে চট্টগ্রাম হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামের একটি বিশাল গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। প্রায় ৫০-৬০টি গবাদিপশু সমৃদ্ধ এই খামারটির পরিচালনা ও দেখভাল করতেন ব্যাংকের বাইরের লোক মো. জাফরুল্লাহ তানভীর।

ঘটনা জানাজানির পর অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ২২/৪৩৮)। দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, মো. কামরুল হোসেন (৪১) অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ। মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) কামরুল হোসেনের সহযোগী ও খামার পরিচালক।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন জানান, আসামিদের আলামতসহ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে দুই জোড়া মোবাইল ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে লেনদেন ও যোগাযোগের তথ্যসহ একটি ৬৪ জিবির পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাংকিং খাতে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে এত বিপুল অঙ্কের অর্থের ঘাটতি কীভাবে ব্যাংকের নিয়মিত দৈনিক ব্যালেন্স হিসাব, অডিট ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকিতে ধরা পড়েনি—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রাহক ও বিশ্লেষকরা। জালিয়াতির পেছনে ব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইন্ধন বা গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।