বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মনোনয়ন পাওয়ার পর পরই তিনি সরকারের মন্ত্রীত্বসহ দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত স্থায়ী কমিটির যৌথ বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সচিবালয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এটিই ছিল সরকারের প্রথম স্থায়ী কমিটির বৈঠক।
বৈঠক শেষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংবিধান ও দলীয় শৃঙ্খলা মেনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দায়িত্ব এবং বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আজই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাঁর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া পদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ১৬ আগস্ট, সকাল ১০টা থেকে। ১৮ আগস্ট, বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে)।
জাতীয় সংসদে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অধিকারী হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সংসদ সচিবালয় তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা করবে এবং পরবর্তীতে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম জাতীয় সংসদে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বর্তমানে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

