
জয়নাল আবেদীনঃ রংপুরে হিমাগারে (কোল্ডস্টোরেজ) আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণ ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচ নিয়ে আলু চাষি-ব্যবসায়ী এবং হিমাগার মালিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে আলুর যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন এবং কোল্ডস্টোরেজ থেকে আলু বের করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি। অন্যদিকে কোল্ডস্টোরেজ মালিক সমিতি এই আন্দোলনকে ‘মব কালচার’ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা বলে অভিযোগ তুলেছেন।
গত বুধবার দুপুরে রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল কৃষি বিপণন বিভাগীয় কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে তারা কৃষি বিপণন বিভাগের উপপরিচালক এমএন আলমগীর বাদশার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের গঠিত সুপারিশ কমিটি গত ১৫ জুলাই যৌক্তিক ভাড়ার সুপারিশে স্বাক্ষর করে ২০ জুলাই তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠায়। কিন্তু ২০২৬ মৌসুমের এক-তৃতীয়াংশ সময় পার হয়ে গেলেও সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে রয়েছে। ১৬ আগস্টের মধ্যে রংপুর জেলায় আলু সংরক্ষণের ভাড়া চূড়ান্ত করা না হলে কঠোর রাজপথ আন্দোলন শুরু হবে।
সিদ্ধান্ত না হলে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৫ টাকা ভাড়ায় হিসাব করে হিমাগার থেকে বের করে নেওয়া হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তার দায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরকেই নিতে হবে।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের এই আন্দোলনকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু জানান, হিমাগার মালিকদের ক্ষতি মেনে নিয়েই সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল।
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি ছিল প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে ব্যয় ৯ টাকা ৬২ পয়সা। কিন্তু সরকার তা ৬ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করে দিলে মালিকপক্ষ সরকারি হার মেনেই আলু জমা নেয় এবং ভাউচার-স্লিপেও তা উল্লেখ থাকে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ডিজেল পুড়িয়ে কোল্ডস্টোরেজ চালু রাখতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিটি হিমাগারে মাসে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বাড়তি বিদ্যুৎ বিল আসছে।
শেষ মুহূর্তে এসে ‘মব’ তৈরি করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আলু বের করে নেওয়ার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রশাসন যদি বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী বছর দেশের সমস্ত কোল্ডস্টোরেজ বন্ধ রাখা হবে।
হিমাগার মালিকদের দাবি, আন্দোলনকারী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ মূল নেতারা প্রকৃত আলু চাষি বা কৃষক নন; তারা মূলত আলু মজুতদার ও ফড়িয়া ব্যবসায়ী।
বর্তমানে স্থানীয় জেলা, বিভাগীয় ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করা হয়েছে। উভয় পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে রংপুরের আলুর বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
