বিশেষ প্রতিবেদক: দেশের ২৩তম ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন আলোচনার হাওয়া। সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের রেসে প্রার্থী মনোনীত হওয়ায় তিনি এরই মধ্যে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। সংসদে বিএনপির একক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বঙ্গভবনের নতুন অভিভাবক হিসেবে তাঁর আসীন হওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।
তবে এই রাজকীয় যাত্রার মুখে নতুন করে সামনে এসেছে একটি আগ্রহোদ্দীপক সাংবিধানিক প্রশ্ন— দেশের নতুন এই রাষ্ট্রপ্রধানকে শপথ পাঠ করাবেন কে?
বর্তমান সাংবিধানিক ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে শূন্যতা বা অনুপস্থিতির কারণে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে— স্পিকার যদি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকেন বা স্পিকারের পদ শূন্য হয়, তবে স্পিকারের যাবতীয় সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদন করার বিধান রয়েছে ডেপুটি স্পিকারের ওপর।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং এর অধীনস্থ ‘তৃতীয় তফসিল’ অনুযায়ী, নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করানোর সুনির্দিষ্ট আইনি দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের ওপর। কিন্তু এখানে তৈরি হয়েছে এক অনন্য সাংবিধানিক পরিস্থিতি—যেহেতু স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিজেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাই সংবিধানের নিয়ম অনুসারে স্পিকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও বিধিমালার এই সমীকরণে দেখা যাচ্ছে, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে স্পিকার পদের আইনি এখতিয়ার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেপুটি স্পিকারের ওপর বর্তেছে। এর ফলে, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর ঐতিহাসিক পদ ও গোপনীয়তার শপথ পাঠ করানোর আইনি দায়িত্ব পালন করবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অতীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় যিনি ছিলেন দলের মহাসচিবের সহযোদ্ধা, রাষ্ট্রীয় বিধানের অনন্য নিয়মে সেই সাবেক আইন সম্পাদকের হাত ধরেই এবার নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনের এই সম্ভাব্য শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

