ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা দাবি করা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
সোমবার রাতে বাপ্পিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁরা ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা অবরোধে সড়কের উভয় পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
অবরোধকারীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিন, ইমরুল কায়েস সুমনসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে বাপ্পিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমানের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
রাত ৮টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা থানায় গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ওসি আশাদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে থানা ফটকের সামনে পথসভায় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের ভূমিকার প্রতি তাঁরা হতাশ হলেও আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না।
পথসভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি, ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নান্নু রহমান, বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, মাহমুদুর রহমান জুয়েল এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানসহ অন্যরা।
মেহেদী হাসান বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় আমরা হতাশ। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সড়ক ছেড়ে যাচ্ছি। তবে জনগণের স্বার্থে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, জুবায়ের বাপ্পির বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তাঁকে পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সোমবার রাতেই ডিবি তাঁকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের কলেজ রোডে নিজের বাড়ি থেকে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে বের হন বাপ্পি। তাঁর মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা ছিল। তিনি শহরের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হেঁটে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া দেন। এ সময় দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথাকে তাঁর পাশে হাঁটতে দেখা যায়। পরে বাপ্পি রেলগেটের জিরো পয়েন্টে যান।
সেখানে বাপ্পি দাবি করেন, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বক্তব্যও দেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি থানায় যান।
খবর পেয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতাকর্মী থানায় গিয়ে বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরে তাঁকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও বাপ্পি নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
গত শুক্রবার বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে ‘সন্ত্রাসী, খুনি ও মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, “জুবায়ের বাপ্পি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে মহড়া দিয়েছেন। আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে রেলগেট ট্রাফিক আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে বক্তব্যও দিয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার এবং তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছি।”
জুবায়ের বাপ্পি বলেন, “আমি মাদক ও সুদখোরদের বিরুদ্ধে এবং যারা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, তাদের ওপেন চ্যালেঞ্জ জানাতেই রাস্তায় নেমেছিলাম।”
ওসি আশাদুর রহমান বলেন, বাপ্পির হাতে থাকা শটগানটি তাঁর নিজের নামে লাইসেন্স করা। আগ্নেয়াস্ত্রটি নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার পর এর লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

