ফরিদপুরে সিজারের সময় পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই: ৫১ দিন পর রোগীর মৃত্যু

0
ফরিদপুরে সিজারের সময় পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই: ৫১ দিন পর রোগীর মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় পেটে দেড় কেজি তুলা ও গজ (ব্যান্ডেজ) রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ ৫১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছেন কণিকা মণ্ডল (৩৫) নামে এক প্রসূতি।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত কণিকা মণ্ডল রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের চরম অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন প্রসববেদনা নিয়ে ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি হন কণিকা মণ্ডল। ওই দিন সন্ধ্যায় গাইনি চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন এবং প্রসূতি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তবে অস্ত্রোপচারের পরদিনই প্রসূতির পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে এবং শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।

অবস্থার কোনো উন্নতি না দেখে স্বজনেরা গত ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকা কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা পেটের ভেতর গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন।

গত ৭ জুলাই ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালের ডা. আবদুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পুনরায় অস্ত্রোপচার চালিয়ে কণিকা মণ্ডলের পেটের ভেতর থেকে প্রায় দেড় কেজি ওজনের গজ বের করা হয়। এর পর থেকে তিনি ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় আইসিইউ ও সাধারণ বেডে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। বার্তায় চিকিৎসক লেখেন, “দাদা নমস্কার। ভালো থাকুন ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা করি। সব কথার আগে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থী। ভুল মানুষেরই হয়, অনেক ঝামেলার ভিতর থেকে আমি ভুল করে ফেলেছি, আমি বারবার ক্ষমা প্রার্থী আপনার কাছে। খুব কষ্টের মধ্যে আছি। আবারও ক্ষমা চাচ্ছি দাদা।”

দুই মাসের নবজাতক কন্যা এবং আরও দুটি ছোট ছেলেকে নিয়ে এখন দিশেহারা নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল। তিনি বলেন, “আমার ছোট ছোট শিশু সন্তানগুলোকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? সামান্য অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীর জীবন গেল। আমি এই চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার চাই।”

এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমবার তিনি বিষয়টি মনে নেই বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।